সরবরাহ সীমিত এবং নতুন রফতানি আদেশের কারণে এ প্রবণতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড সর্বনিম্ন জমিতে চাল আবাদ হলেও অতিরিক্ত মজুদের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার কিছুটা চাপে রয়েছে। আন্তর্জাতিক কৃষি পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর সর্বশেষ বাজার পর্যালোচনায় এ চিত্র উঠে এসেছে। খবর ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকম।
আন্তর্জাতিক শস্য পরিষদের (আইজিসি) প্রতিবেদনে বলা হয়, চালের সার্বিক মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ১ শতাংশ কমেছে। থাইল্যান্ডের বাজারের মন্দা ভাবই এ পতনের মূল কারণ। দেশটিতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সাদা চালের রফতানি মূল্য টনপ্রতি ৩১ ডলার কমে ৪৫০ ডলারে নেমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দুর্বল চাহিদা এবং নতুন ফসল কাটার মৌসুম শুরু হওয়ায় সেখানে দরপতন ঘটেছে।
এর বিপরীতে থাইল্যান্ডে দাম কমলেও এশিয়ার অন্য দেশগুলোয় সরবরাহ কমে যাওয়ায় চালের দাম বেড়েছে। ভিয়েতনামে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম টনপ্রতি ৮ ডলার বেড়ে ৪২০ ডলার হয়েছে। পাকিস্তানে এ দর ৯ ডলার বেড়ে ৪১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ভারতের কাকিনাডা বন্দরে সেদ্ধ চালের দাম টনপ্রতি ১৪ ডলার বেড়ে ৩৫৫ ডলারে পৌঁছেছে। পশ্চিম আফ্রিকায় রফতানি বৃদ্ধি এবং দুর্বল মৌসুমি বৃষ্টির আশঙ্কায় ভারতে চালের দাম বেড়েছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসের তুলনায় জুনে সার্বিক চালের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেশি ছিল। জুনে ইন্ডিকা জাতের চালের মূল্যবৃদ্ধি এ সূচক বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে, যার দর আগের মাসের চেয়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে আমেরিকা অঞ্চলের বাজার পরিস্থিতিতে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস রাইস প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইউএসআরপিএ) জানায়, আমেরিকান প্রতিষ্ঠান এডিএম ইরাকের কাছে আরো ৮৮ হাজার টন চাল বিক্রি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দার এ সময়ে দেশের বিশাল পুরনো মজুদ খালি করার জন্য এ চুক্তিকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাল উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশটিতে বড় দানা বা লং গ্রেইন চালের আবাদি জমি কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ লাখ একরে, যা ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। উৎপাদন বিপুল পরিমাণে কমার পরও বাজারে বিশাল মজুদ থাকায় দেশটির নগদ চালের বাজার সর্বনিম্নের কাছাকাছি অবস্থান করছে।